এক দশকে ৩৭ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কফি পান করেছে বিশ্ববাসী

ক্রমেই সম্প্রসারণ হচ্ছে কফির বৈশ্বিক বাজার। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে (২০১৫-২০২৪ সাল) ৩৭ হাজার ৩০ কোটি ডলার সমমূল্যের কফি পান করেছে বিশ্ববাসী।

ক্রমেই সম্প্রসারণ হচ্ছে কফির বৈশ্বিক বাজার। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে (২০১৫-২০২৪ সাল) ৩৭ হাজার ৩০ কোটি ডলার সমমূল্যের কফি পান করেছে বিশ্ববাসী। বৈশ্বিক কফি চেইনগুলোর ব্যাপক প্রসারের কারণে খাতটির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

আইটিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে কফির মোট বাণিজ্য হয়েছে ৩৭ হাজার ৩০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করেছে ৬ হাজার ৯২০ কোটি ডলার মূল্যের কফি, যা পণ্যটির মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর পরের দুটি অবস্থানে রয়েছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি ও ২ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার মূল্যের কফি আমদানি করে যথাক্রমে জার্মানি ও ফ্রান্স। ১০ বছরে শীর্ষ ১০টি আমদানিকারক দেশের বৈশ্বিক কফি বাজারের হিস্যা ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যান্য শীর্ষ কফি আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে ইতালি, কানাডা, বেলজিয়াম, স্পেন, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড।

এদিকে গত এক দশকে কফি রফতানির দিক থেকে বিশ্ববাজারে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল। দেশটি এ সময়ে ৩৬ হাজার ৩০ কোটি ডলার সমমূল্যের কফি রফতানি করেছে। এর পরের দুটি অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (২ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার) ও কলম্বিয়া (২ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার)। এর মধ্যে ব্রাজিলে কফি উৎপাদনে দ্বিবার্ষিক চক্রের প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ এক বছর ফলন বেশি হলে পরের বছর তা কমে যায়। তার পরও দেশটি কফি রফতানিতে বরাবরই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। অন্যান্য শীর্ষ কফি রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, ভিয়েতনাম, ইতালি, হন্ডুরাস, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইন্দোনেশিয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব কফি বাজারে সরবরাহ সংকট ও স্থিতিশীল চাহিদার কারণে পণ্যটির দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে দাম কমতে শুরু করেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ কফি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে রোবাস্তা জাতের কফি। ভিয়েতনামে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বাড়ছে, যা সামনের দিনগুলোয় সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে পারে। এছাড়া নতুন করে লাগানো বাগানগুলো তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কফির বাজারে কেবল সরবরাহ ও চাহিদাই একমাত্র নির্ধারক নয়, বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি ব্রাজিল থেকে পণ্য আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় কফির শীর্ষ আমদানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এতে সামনের দিনগুলোয় ব্রাজিলীয় কফির গন্তব্য বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্র বাদ দিয়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় বেশি পরিমাণে কফি রফতানি করতে পারে। কারণ চীনেও এখন কফি পানের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলগুলোও পণ্যটির বিকল্প গন্তব্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও